Uncategorized

কুরবানি ২০২৬ গরু কেনা, কাটা,ভাগ সব এক সাথে।

গত কয়েক বছর আমাদের গ্রাহকদের জন্য আমরা
কুরবানিতে ভাগা সার্ভিস/ শরিকানা সার্ভিস দিয়ে থাকি।

অনেকের পক্ষেই ঢাকা শহরে আস্ত একটা গরু কুরবানি দেয়া সম্ভব হয় না, অনেকেই খাশীর মাংস পছন্দ করেন না, সেক্ষেত্রে কুরবানির একটা অপশন হলো আরও শরীক মিলে সাতভাগে একটা গরু কুরবানি দেয়া।

ঢাকা শহরে আস্ত গরু কুরবানি দেয়াই ঝামেলাপূর্ণ, ভাগে গরু কুরবানি দেয়া আরও ঝামেলাপূর্ণ।

গ্রামদেশে আমরা পাড়া প্রতিবেশি, আত্মীয়স্বজন মিলে একসাথে কুরবানি দেই, কিন্তু ঢাকা শহরে তো আমরা পাশের ফ্লাটের লোকজনকে চিনি না, শরীকানা মিলাবো কখন।

এর বাইরে বাজেট ম্যাচ করার বিষয় আছে। পাশের ফ্লাটের সাব্বির সাহেবের বাজেট হয়তো ত্রিশ হাজার, আপনার বিশ হাজার।

বাজেট মিলে গেলে এবার শুরু হয় বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার পালা। কে হাটে যাবে, কে কশাইয়ের সাথে কন্ট্যাক্ট করবে, কে ভাগাভাগি করবে, ‘ধুর ছাতা, কুরবানিই করুম না। এতো ঝামেলা নিবে কে?!?’

এতোসব কারণে ঢাকা শহরের অনেকেই আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি দেয়া থেকে বিরত থাকে অথবা গ্রামে টাকা পাঠিয়ে দেয় কুরবানি দেয়ার জন্য।

মূলত এসব লোকের জন্যই আমাদের কুরবানির ভাগা সার্ভিস। সামর্থ্য থাকলে যেন ঝামেলার কারণে আপনি কুরবানি থেকে বঞ্চিত না হোন।

সবাইকে আমরা এই সার্ভিস নিতে উদ্বুদ্ধ করিনা, সবার জন্য এই সার্ভিস না।

কুরবানি শুধু একটা মাংস খাওয়ার উপলক্ষ নয়, একটি ইবাদাত, একটি উৎসব। আল্লাহ এতো ভ্যারাইটির অপশন রেখেছেন যাতে সবাই এই উৎসবে সামিল হতে পারে।

হাট থেকে গরু কিনে, সেই গরু দাম বলতে বলতে হাটিয়ে নিয়ে আসার যে আনন্দ, সেটা কি অন্যকিছুতে আছে।

এরপর ঈদের দিন একদিনের কশাই বনে যাওয়া, সবাই মিলে গরু কুরবানি দেয়া, মাংস বিতরণ করা, এর ওর বাসায় খেতে যাওয়া, পুরাই আলাদা একটা আনন্দ। এইসব রেডিমেড সার্ভিস দিয়ে এই আনন্দ কি পূরণ করা যায়?

এজন্য আমরা বলি, যাদের সামর্থ আছে তাদের ট্রেডিশনালি কুরবানি দিতে। কিন্তু সবার গল্প একরকম নয়। গতবারের আগেরবার আমাকে একজন ফোন দিয়ে অনলাইন গরুর ক্যাটালগ চাইলেন।

আমরা মূলত অনলাইন থেকে লিড কালেক্ট করি, বাট সেল ক্লোজ করি অফলাইনে। তাকে রিকোয়েস্ট করলাম অন্তত আধা ঘন্টার জন্য হলেও খামারে এসে গরুটা দেখে যেতে।

তখন সেই ভদ্রলোক আমাকে একটা উত্তর দেয়, যেটা আমার অন্তরে খুব দাগ কাটে। “ভাইয়া আমিতো এক্সিডেন্ট করে এখন ফিজিকালি চ্যালেঞ্জড, আমি ঘর থেকে বের হতে পারি না, গরু কিনলে আমাকে অনলাইনেই কিনতে হবে”।

দেখেন আমরা কত সহজেই মানুষের চাহিদাকে জেনারেলাইজড করে ফেলি।

‘ধুর, অনলাইন থেকে গরু কিনলে ঈদের মজা আছে’, ‘অনলাইনে দেখায় এক, দেয় আরেক’- মানুষের কত অভিযোগ।

কিন্তু দেখেন এই অনলাইন বা আমাদের মতো খামারেরা আছে বলেই উপরে বর্ণিত সেই ভাইয়ের মতো অনেকের কুরবানির ইবাদাত পরিপূর্ণ হয়।

এই ভাইয়ের মতো অনেকের পরিবারেই অনেক ইস্যু থাকে।

বাড়ির গার্জিয়ান হজ্জে যায়, বৃদ্ধ বাবা মা একা থাকে, ছেলেমেয়ে বিদেশ, বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই- কতজনের কত ঝামেলা!

শেষমেশ এই বেচারাদের কুরবানিই দেয়া হয় না। এদের জন্যই আমাদের এই ভাগা সার্ভিস বা অনলাইনে গরু বিক্রি বা কশাই সার্ভিস।

আমাদের এগ্রো থেকে আকিকা সার্ভিস এবং কুরবানির সময় এই সেবাগুলো আমরা নিছক টাকা কামানোর জন্য ডেভেলপ করিনি। মানুষের ইবাদাতের সহযোগিতার অংশ হিসেবে ডেভেলপ করেছি।

আমরা বিশ্বাস করি, খারাপ কাজে সহযোগিতা করলে যদি গুণাহের ভাগীদার হতে হয়, তবে কাউকে ভালো কাজে বা ইবাদাতে সহযোগিতা করলে আমার আল্লাহ আমাকে পুরষ্কৃত করবেন।

আপনার আশেপাশে যদি এরকম জানাশোনা সমসস্যাগ্রস্থ মানুষ থাকে, যারা ঝামেলার কারণে কুরবানি দেয়া থেকে বিরত থাকবে আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও, তবে আমাদের এই সেবাগুলো রেফার করতে পারেন। আপনিও ভালো কাজের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন, ইন শা আল্লাহ।

আমাদের জন্য দুয়া করবেন, যেন এরকম ভালো কাজের সহযোগী হিসেবে থাকতে পারি আজীবন এবং আল্লাহ যেনো আমাদের এই কাজগুলো কবুল করে নেন, আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *